পশ্চিমবঙ্গে ই-শ্রম (e-Shram) প্রকল্প ও আবেদন প্রক্রিয়া
ই-শ্রম (e-Shram) হল ভারত সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের (Unorganised Workers) একটি জাতীয় ডাটাবেস তৈরি করা হয়, যাতে তারা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সহজে পেতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের অসংগঠিত শ্রমিকরাও এই প্রকল্পে নিবন্ধন করতে পারেন।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য
- অসংগঠিত শ্রমিকদের একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার (National Database) তৈরি করা।
- বিভিন্ন সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
- পরিযায়ী শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, গৃহকর্মী, রাস্তার হকার, মৎস্যজীবী, গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের তথ্য সংরক্ষণ করা।
- শ্রমিকদের জন্য একটি একক পরিচয় নম্বর (UAN) প্রদান করা।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা ই-শ্রমে নিবন্ধন করতে পারবেন—
- কৃষি শ্রমিক
- নির্মাণ শ্রমিক
- গৃহকর্মী
- রিকশা/ভ্যান চালক
- হকার ও ফেরিওয়ালা
- মৎস্যজীবী
- স্বনিযুক্ত শ্রমিক
- ডেলিভারি কর্মী ও গিগ কর্মী
- অন্যান্য অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক
যোগ্যতা
- ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
- বয়স ১৬ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- EPFO, ESIC বা NPS-এর নিয়মিত সদস্য হওয়া যাবে না।
- আয়করদাতা হওয়া যাবে না।
ই-শ্রম কার্ডের সুবিধা
১. ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN)
নিবন্ধনের পর শ্রমিককে একটি ১২ সংখ্যার UAN (Universal Account Number) প্রদান করা হয়, যা সারা ভারতে বৈধ।
২. দুর্ঘটনা বীমা সুবিধা
- দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা সম্পূর্ণ অক্ষমতায় ₹২,০০,০০০ পর্যন্ত বীমা।
- আংশিক স্থায়ী অক্ষমতায় ₹১,০০,০০০ পর্যন্ত বীমা সুবিধা।
৩. সরকারি প্রকল্পের সুবিধা
ই-শ্রমে নিবন্ধিত শ্রমিকদের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
৪. পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধা
সারা দেশে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার বহনযোগ্যতা (Portability) নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
- আধার কার্ড
- আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর
- ব্যাংক পাসবই
- IFSC কোড
- পেশা বা কাজের তথ্য
আবেদন প্রক্রিয়া (Online Registration)
ধাপ–১: পোর্টালে প্রবেশ
ই-শ্রম পোর্টালে গিয়ে "Register on e-Shram" অপশন নির্বাচন করতে হবে।
ধাপ–২: মোবাইল নম্বর যাচাই
- আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বর দিতে হবে।
- OTP-এর মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
ধাপ–৩: আধার যাচাইকরণ
- আধার নম্বর প্রদান করতে হবে।
- OTP বা বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে আধার যাচাই করতে হবে।
ধাপ–৪: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ
- নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা
- পেশা ও দক্ষতার তথ্য
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য
- মনোনীত ব্যক্তির (Nominee) তথ্য প্রদান করতে হবে।
ধাপ–৫: আবেদন জমা
সমস্ত তথ্য যাচাই করে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। সফল নিবন্ধনের পর UAN নম্বরসহ ই-শ্রম কার্ড তৈরি হবে।
CSC কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন
যাদের আধারের সঙ্গে মোবাইল নম্বর যুক্ত নেই বা অনলাইনে আবেদন করতে অসুবিধা হয়, তারা নিকটবর্তী Common Service Centre (CSC)-এ গিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বিনামূল্যে নিবন্ধন করতে পারেন।
ই-শ্রম কার্ড ডাউনলোড
- ই-শ্রম পোর্টালে লগইন করুন।
- UAN নম্বর বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করুন।
- OTP যাচাই করুন।
- e-Shram Card PDF ডাউনলোড করুন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ই-শ্রম কার্ড কোনো ঋণ বা সরাসরি মাসিক ভাতা প্রকল্প নয়।
- এটি মূলত অসংগঠিত শ্রমিকদের সরকারি সুবিধার আওতায় আনার জন্য একটি জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা।
- সাম্প্রতিক সময়ে গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের (যেমন ডেলিভারি কর্মী, রাইডার ইত্যাদি) নিবন্ধনেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার
ই-শ্রম (e-Shram) প্রকল্প অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ। পশ্চিমবঙ্গের কৃষি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, মৎস্যজীবী, হকার, ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা ই-শ্রমে নিবন্ধন করে একটি UAN নম্বর, দুর্ঘটনা বীমা এবং বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারেন।

Post a Comment